পবিত্র কুমার দাসের চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করলেন ব্রাদার রাহুল হোসেন
দীর্ঘদিনের অনলাইন বাকযুদ্ধের পর অবশেষে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিতার্কিক ব্রাদার রাহুল হোসেন রুহুল আমিন। আর্য সমাজ সম্পৃক্ত বলে পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট পবিত্র কুমার দাসের ছুঁড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
ঘটনার পটভূমি; গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পবিত্র দাস নামের এক ব্যক্তি ব্রাদার রাহুল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে একাধিক চ্যালেঞ্জমূলক পোস্ট করে আসছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পর গত ৯ এপ্রিল নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল হোসেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত ব্যক্তি হিন্দু সমাজে স্বীকৃত কোনো প্রতিনিধি নন এবং তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিতর্ক অর্থহীন হতে পারে। আমি এক মাস আগেই ঘোষণা করে রেখেছি যে, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন ধর্মীয় সভা ও প্রোগ্রামের জন্য ব্যস্ত থাকবো। তিনি আরও জানান, পূর্বে আর্য সমাজের মহেন্দ্র পাল আরিয়ার সঙ্গে তার একটি বিতর্ক হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে স্বীকৃত পণ্ডিতদের সঙ্গে একাডেমিক আলোচনা করতে আগ্রহী। রাহুল হোসেনের দাবি, পবিত্র দাস দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় আসার জন্য বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য ও কনটেন্ট তৈরি করছেন। এমনকি অভিযোগ রয়েছে—তার ফলোয়ারদের বড় অংশ মুসলিম এবং তিনি হিন্দু সমাজের মূলধারার প্রতিনিধিত্ব করেন না।
চ্যালেঞ্জ গ্রহণ প্রসঙ্গে জানান, যদি উক্ত ব্যক্তি সত্যিই বিতর্ক করতে চান, তাহলে ব্রাদার রাহুল হোসেনের ভাবশিষ্য নাঈম ইসলাম ইতিমধ্যেই তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। তিনি তার সাথেই আলোচনা করতে পারেন।
চ্যালেঞ্জ গ্রহণের পরও সংশ্লিষ্ট সনাতনী ব্যক্তি ব্রাদার রাহুল হোসেনের ভাবশিষ্যের দেওয়া চ্যালেঞ্জে সাড়া দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং, তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পাল্টা চ্যালেঞ্জমূলক বার্তা প্রকাশ করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে একাধিক ভুল তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে, ব্রাদার রাহুল হোসেনের নাম ব্যবহার করে নিজ উদ্যোগে তথাকথিত ফোনকলের রেকর্ড তৈরি ও তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল রাত ১০টার দিকে ফেসবুকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পবিত্র দাসের চ্যালেঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন ব্রাদার রাহুল হোসেন। এবং প্রতিত্তরে জানায় শুক্রবার রাত্রি পর্যন্ত পবিত্র দাস যদি চ্যালেঞ্জ গ্ৰহন করে আগামী ২৫ তারিখ শনিবার তাদের দুইজনের মধ্য অনলাইনে একাডেমিক ডিবেট অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য বিতর্কের বিষয়বস্তু থাকবে জগতের সৃষ্টিকর্তা বেদের ঈশ্বর নাকি কোরআনের আল্লাহ?
এই ঘোষণার পর দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশ্ন এখন একটাই — পবিত্র দাস কি শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কে অংশ নেবেন?
এখনো পর্যন্ত পবিত্র দাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সম্মতির কোনো নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে অনলাইন মহলে জোর আলোচনা চলছে।
পরবর্তী আপডেটের জন্য সঙ্গে থাকুন।
What's Your Reaction?
Like
3
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0