কুরবানির ঈদের দিন SIR ট্রাইব্যুনালে হাজিরার নোটিশ, ফারাক্কার ৮ আবেদনকারীকে ঘিরে বিতর্ক
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার ৮ জন আবেদনকারীকে কুরবানির ঈদের দিন ট্রাইব্যুনালে শুনানির হাজিরার নোটিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
কুরবানির ঈদের দিন SIR ট্রাইব্যুনালে হাজিরার নোটিশ, ফারাক্কার ৮ আবেদনকারীকে ঘিরে বিতর্ক
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এবার মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার ৮ জন আবেদনকারীকে কুরবানির ঈদের দিন ট্রাইব্যুনালে শুনানির জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গিয়েছে, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তির জন্য বর্তমানে SIR ট্রাইব্যুনালের শুনানি চলছে। প্রয়োজনে আবেদনকারীদের শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতে ফারাক্কার ৮ জন আবেদনকারীকে আগামী ২৮ মে, বৃহস্পতিবার, বেলা সাড়ে ১১টায় ফারাক্কা বিডিও অফিসে হাজির হতে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, ১১ নম্বর ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে থাকা কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই নোটিশ জারি করা হয়েছে। নোটিশ পাওয়া আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন— রকেশ শেখ, আব্দুল রশিদ, আকবর আলি মীর্জা, বিজয় মন্ডল, আলফাজ শেখ, বিমল মন্ডল, সাকিনা বিবি এবং তাকিউল শেখ।
তবে বিতর্কের মূল কারণ, ২৮ মে-ই পালিত হবে পবিত্র কুরবানির ঈদ (বকরি ঈদ)। মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবের দিনেই শুনানির তারিখ নির্ধারণ করায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে আবেদনকারীদের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, এই দিনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পারিবারিক দায়িত্ব এবং সামাজিক ব্যস্ততার কারণে হাজিরা দেওয়া কার্যত অসম্ভব।
আবেদনকারী সাকিনা বিবি বলেন, “মুসলিমদের কাছে কুরবানির ঈদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। ওইদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়া সম্ভব নয়। এই সিদ্ধান্ত অমানবিক।”
অন্য আবেদনকারীদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন দিনে শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে যাতে তাঁরা হাজির হতে না পারেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক সংবেদনশীলতা ও নাগরিক অধিকারের বিষয়েও। ধর্মীয় উৎসবের দিনে সরকারি শুনানির নোটিশ দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা। এখন দেখার, বিতর্কের মুখে প্রশাসন শুনানির দিন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় কি না।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0