নেপালে ভয়াবহ বন্যা! শত শত মানুষের মৃত্যু
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। শত শত মানুষের মৃত্যু ও বহু মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধার অভিযান ও সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদ
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা: শত শত মানুষের মৃত্যু, নিখোঁজ সহস্রাধিক
কাঠমান্ডু, ২৭ আগস্ট ২০২৬: ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপাল। নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের একটি বিশাল অংশ ধসে নদীতে পড়ে সৃষ্টি হয় প্রবল জলস্রোত ও কাদাধস। মুহূর্তের মধ্যেই সেই স্রোত ভাসিয়ে নেয় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
সর্বশেষ প্রতিবেদনে নেপাল ও চীনের তিব্বত মিলিয়ে ৩৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তা ও সেতুর কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মুহূর্তেই ধ্বংসযজ্ঞ
২৬ আগস্ট সকালে নেপালের রাসুওয়া, নুয়াকোট ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধস আঘাত হানে। লহেন্দে খোলা নদী দিয়ে নেমে আসা পানি, বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত কয়েকটি জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিহ্ন করে দেয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯টি সেতু এবং ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিদেশি পর্যটকরাও নিখোঁজ
এই দুর্যোগে বহু বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন, যাদের অনেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় ছিলেন। বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কীভাবে ঘটল এই ভয়াবহ বন্যা?
প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে সম্ভাব্য কারণ মনে করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানায়, ভূকম্পন হিসেবে ধরা পড়া সংকেতটি আসলে হিমবাহ ও পাথরের ধসের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। বিশাল বরফ-পাথরের স্তূপ নদীর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং পরে সেই পানি প্রচণ্ড শক্তিতে নিচের দিকে নেমে আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রবণতা এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
নতুন করে বন্যার আশঙ্কা
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, ধসের কারণে একটি এলাকায় পানি আটকে নতুন হ্রদের মতো জলাধার তৈরি হয়েছে। পানির স্তর আরও বাড়লে সেটি ভেঙে গিয়ে আবারও ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। নদীর তীরবর্তী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে UNICEF জানিয়েছে, নেপালের তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় ১৭ হাজারের বেশি শিশু এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য সংস্থাটি আবেদন জানিয়েছে।
উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0